Deleted
প্রকাশ : শনিবার, ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, ইসলামি ব্যাংকিং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: গভর্নর

শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, ইসলামি ব্যাংকিং একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা: গভর্নর

ইসলামি ব্যাংকিং কেবল ধর্মীয় আবেগের বিষয় নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।

তিনি বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের এক-চতুর্থাংশের বেশি অংশ ইসলামী ব্যাংকগুলোর। শরীয়াহভিত্তিক ইসলামি ব্যাংকিংয়ে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলা হয়। বাংলাদেশে ইসলামি ব্যাংকিং মানুষের সচেতন পছন্দের ফল।’ ভবিষ্যতে এ খাত আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘আন্তর্জাতিক ইসলামি অর্থায়ন ও ব্যাংকিং সম্মেলন’-এর দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে সেন্ট্রাল শরীয়াহ বোর্ড ফর ইসলামিক ব্যাংকস অব বাংলাদেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগ।

গভর্নর বলেন, ‘দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি বড় অংশ শরীয়াহভিত্তিক হলেও ইসলামি ব্যাংকগুলোর জন্য বিনিয়োগের সুযোগ এখনও সীমিত। ফলে তারল্য ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হচ্ছে।’ এ অবস্থায় ইসলামি ব্যাংকগুলোর জন্য শরীয়াহভিত্তিক বন্ড বা সুকুক বাজার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

তিনি জানান, দেশের মোট ব্যাংকিং সম্পদের প্রায় এক-চতুর্থাংশ শরীয়াহভিত্তিক ব্যবস্থার অধীন থাকলেও সেই অনুপাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্র তৈরি হয়নি। এতে তারল্য ব্যবস্থাপনা বড় সমস্যায় পরিণত হয়েছে এবং প্রতিযোগিতার সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে। শরীয়াহভিত্তিক মানি মার্কেট ও সুকুক বাজার না থাকায় ইসলামি ব্যাংকগুলো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন গভর্নর।

গভর্নর বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগে সুকুক বাজার গড়ে তোলা হলে একদিকে সরকারের অর্থায়ন ব্যয় কমবে, অন্যদিকে ইসলামি ব্যাংকগুলো তারল্য ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি পাবে। এতে পুরো খাত আরও স্থিতিশীল হবে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে দেশের মোট আর্থিক সম্পদের একটি বড় অংশ ইসলামি ব্যাংকিংয়ের অধীনে থাকায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার দায়িত্বও বেড়েছে। এ সম্পদ যেন সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় এবং আমানতকারীরা ভালো রিটার্ন পান—এটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান দায়িত্ব।

গভর্নর বলেন, ‘নীতিগতভাবে ইসলামি ব্যাংকিং সবচেয়ে নিরাপদ ঋণব্যবস্থা হওয়ার কথা। কারণ এটি সম্পদ ও আয়ের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। কিন্তু বাস্তবে বাংলাদেশে এই নীতির সঠিক প্রয়োগ হয়নি। কিছু গোষ্ঠীর দখলদারির কারণে অনিয়ম হয়েছে, যার ফলে গ্রাহক ও আমানতকারীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন।’

তিনি বলেন, এসব অনিয়মের দায় শুধু একটি পক্ষের নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ব্যাংক ব্যবস্থাপনা, শরীয়াহ বোর্ড এবং আমানতকারীরা সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন না করায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আমানতকারীরাও তাদের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে প্রশ্ন তোলেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ইসলামি ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে সম্প্রতি পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করা হয়েছে উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, একই সঙ্গে দেশের সবচেয়ে বড় ইসলামি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে দেশে অন্তত দুটি বড় ও শক্তিশালী ইসলামি ব্যাংক গড়ে উঠবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, ইসলামি ব্যাংকগুলো সাধারণ ব্যাংকের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে আমানতকারীদের ভালো মুনাফা দিতে সক্ষম হলেও সুশাসন নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ খাত থেকে বিপুল অর্থ লুটপাটের সুযোগ নিয়েছে।

তবে ইসলামি ব্যাংকিং খাত জনগণের আস্থা হারায়নি উল্লেখ করে গভর্নর বলেন, গত এক বছরে সবচেয়ে বেশি আমানত এসেছে ইসলামি ব্যাংকগুলোতে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নেওয়া সহায়তার অর্থ ফেরত দিয়েছে ইসলামি ব্যাংক বাংলাদেশ।

ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে একটি নতুন ইসলামি ব্যাংকিং আইন প্রণয়নের কাজ চলছে।

শরীয়াহ বোর্ডের ভূমিকা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ‘শরীয়াহ বোর্ডকে শক্তিশালী ও সাহসী ভূমিকা রাখতে হবে। বোর্ডের সদস্যদের চাকরির ভয় করলে চলবে না।’

সুকুক বন্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বেক্সিমকো সুকুক বন্ড জোর করে বিক্রি করায় দেশের বন্ড বাজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং মানুষের আস্থা নষ্ট হয়েছে। তবে সরকারকে নতুন করে ইসলামি সুকুক বন্ড বাজারে আনার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কাজ শুরু হয়েছে।

গভর্নর বলেন, ‘বাংলাদেশে আর কোনো আর্থিক লুটতন্ত্র ফেরত আসতে দেওয়া হবে না। এজন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের পাশাপাশি একাডেমিশিয়ানসহ সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’

বিশ্বে ইসলামি ব্যাংকিং খাতকে উদাহরণ হিসেবে গড়ে তুলতে হলে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও শক্ত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইএ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

খাতা-কলমে উন্নয়ন, বাস্তবে নেই ছিটেফোঁটাও

1

মায়ের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ তারেক রহমানের

2

কড়াইল বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১১ ইউনিট

3

ব্রয়লার ও ডিমের বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা!

4

‘নারী নিরাপদ না হলে বাংলাদেশ অদম্য নয়’—জন্মদিনে তারেক রহমানে

5

জুলাই সনদের বাইরে কোনো সিদ্ধান্ত নিলে বিএনপি দায় নেবে না: আম

6

ইরানে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভে নিহত ২০০০: সরকারি কর্মকর্তা

7

টানা চতুর্থ মাসের মতো পতনের ধারায় দেশের রফতানি খাত

8

কড়াইল বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা করবে সরক

9

বিএনপির দুইবারের এমপি ও মুক্তিযোদ্ধা যোগ দিলেন জামায়াতে

10

এইচএসসি পুনর্নিরীক্ষণে ফল পরিবর্তন ২ হাজার ৩৩১ জনের

11

গণভোটে থাকবে যে ৪ প্রশ্ন

12

‘চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, হয়ে গেল মবোক্রেসি’: সালাহউদ্দিন আহমদ

13

রক্ত দিতে হলে আগে থাকি, ক্ষমতার প্রশ্ন এলে খুঁজে পাওয়া যায়

14

অশোভন আচরণের দায়ে চিকিৎসককে বহিষ্কারের নির্দেশ দিলেন ডিজি

15

২৪ ঘণ্টা না পেরোতেই আবারো ঢাকায় ভূমিকম্প

16

অবহেলায় নষ্ট হচ্ছে ১৪ কোটি টাকায় নির্মিত কিশোরগঞ্জ পৌর মার্ক

17

খতমে নবুওয়ত সম্মেলনে বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দলের নেতারা

18

ঢাবিতে মোদির কুশপুত্তলিকা দাহ

19

প্রচারণায় গেলে হুমকি পাচ্ছে এনসিপির নেতারা: নাসীরুদ্দীন

20
সর্বশেষ সব খবর