আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন প্রার্থীরা। তফসিল অনুযায়ী আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টা আগ পর্যন্ত এই প্রচারণা চালাতে পারবেন তারা। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশের ২৯৮টি আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তারা ১ হাজার ৯৭৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন।
এ বিষয়ে ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, ‘আজ প্রতীক বরাদ্দ হয়েছে। প্রতীক বরাদ্দের পর রিটার্নিং কর্মকর্তারা কোন আসনে কতজন প্রার্থী, তা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) জানাবেন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের তালিকা সংক্রান্ত ফরম-৫ পূরণ করে পাঠাবেন। সেই আলোকে ব্যালট পেপার ছাপানো হবে।’
আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে ব্যালট পেপার ছাপানোর কাজ শুরু হতে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতীক বরাদ্দ হওয়ায় আগামীকাল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু করতে পারবেন।’
ইসি সূত্রে জানা যায়, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল ২৯ ডিসেম্বর। নির্ধারিত সময়ে এবার ৩০০ সংসদীয় আসনে ২৫৮৫ মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি বাছাইয়ে ৭২৬ জনের মনোনয়নপত্র বাতিলের পর বৈধ প্রার্থী ছিলেন ১৮৫৮ জন।
রিটার্নিং অফিসারদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ জানুয়রি থেকে আপিল আবেদন নেয়া হয়। ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত ৬৩৯ জন আপিল করেন। ১০ জানুয়ারি থেকে আপিল শুনানি শুরু হয়ে একটানা ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত চলে। এবার ৬৪৫ জন আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পান ৪৩১ জন।
অবশ্য পাবনা ১ ও পাবনা-২ আসনে আগে বৈধ হওয়া ১১ জন প্রার্থী (আগের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা ১৩ জনের) এ তালিকা থেকে বাদ যাবেন। ভোটের দিন একই রেখে এ দুটি আসনে নতুন তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। সে অনুযায়ী গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) ছিল এই দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। শেষ দিনে পাবনা-১ আসনে সাতটি ও পাবনা-২ আসনে পাঁচটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে।
তফসিল অনুযায়ী, ত্রয়োদশ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি। একইদিনে হবে গণভোট। সেখানে ‘হ্যা’ এবং ‘না’ ভোটের মাধ্যমে আগামীর বাংলাদেশ সম্পর্কে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানাবেন ভোটাররা।