Ziaur Rahman Bokul
প্রকাশ : রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:১০ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজারের ৬৯ চা বাগানে নেই শিক্ষার পরিবেশ, ৯ হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

মৌলভীবাজারের ৬৯ চা বাগানে নেই শিক্ষার পরিবেশ, ৯ হাজার শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের চা বাগানগুলোতে প্রায় ৯ হাজার শিশুর প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা চরম সংকটে। জেলার ৯২টি চা বাগানের মধ্যে ৬৯টিতেই নামমাত্র বেসরকারি বিদ্যালয় থাকলেও সেখানে নেই কোনো শিক্ষার পরিবেশ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব বিদ্যালয় সরকারীকরণ না হওয়ায় এবং অবকাঠামোগত দৈন্যদশার কারণে চা শ্রমিক সন্তানদের শিক্ষাজীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

​সরেজমিনে করুণ চিত্র:

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী সুনছড়া (দেবল ছড়া) চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সরেজমিনে দেখা যায় শিক্ষার করুণ হাল। ১৯৪০ সালে প্রতিষ্ঠিত (কাগজপত্রে ১৯৮০) এই বিদ্যালয়টি এখন একটি ভাঙা টিনশেড ঘর। সেই ঘরটিও হেলে পড়েছে। জায়গা সংকটে একই ঘরে বাঁশের বেড়া দিয়ে দুটি শ্রেণিকক্ষ করা হয়েছে, আর বাকি ক্লাস নেওয়া হচ্ছে পাশের হেড ক্লার্কের বাংলোর বারান্দায়। প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন। শিক্ষার্থীদের পরনে নেই স্কুল ড্রেস, নেই পর্যাপ্ত শিক্ষা উপকরণ।

​ঝরে পড়ার হার উদ্বেগজনক:

অনুসন্ধানে জানা যায়, অভাব-অনটন আর সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রাথমিকে ৩০-৪০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঝরে পড়লেও মাধ্যমিকে গিয়ে এই হার দাঁড়ায় ৭০-৮০ শতাংশে। অভিভাবকরা বলছেন, ‘‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়, সেখানে বাচ্চাদের পড়ালেখার খরচ চালানো অসম্ভব। প্রতিটি বাগানে সরকারি স্কুল ও উপবৃত্তি চালু করা জরুরি।’’

​শিক্ষকদের মানবেতর জীবন:

সুনছড়া চা বাগান প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিটুন কুর্মী জানান, চা শ্রমিকদের মজুরির সমান সম্মানী পান শিক্ষকরা। কোনো কোনো শিক্ষকের মাসিক সম্মানী মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা। তিনি বলেন, ‘‘আমাদের দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না। অনেক কষ্ট করে বাচ্চাদের ক্লাস করাতে হচ্ছে।’’

​বিশেষজ্ঞ ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও চা শ্রমিক জীবন নিয়ে গবেষক ড. আশরাফুল করিম বলেন, ‘‘১৯৭৭ সালের আইন অনুযায়ী প্রতিটি বাগানে একটি করে স্কুল থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে তা নেই। চা শ্রমিকরা স্বাধীন দেশের নাগরিক, তাদের প্রতি এই বৈষম্য দূর করা সরকারের দায়িত্ব।’’

​বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘‘স্কুলগুলোর করুণ পরিণতি নিয়ে বারবার স্মারকলিপি দিয়েছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।’’

​জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সফিউল আলম জানান, চা বাগানের স্কুলগুলো সরকারি করার সুযোগ আছে, তবে তা সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করে। এ বিষয়ে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল বলেন, ‘‘সুনির্দিষ্টভাবে কোনো বিদ্যালয় আবেদন করলে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করা হবে।’’

​এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যুদ্ধবিরতির মধ্যে ইসরাইলি হামলায় গাজায় নিহত ছাড়াল ৭০ হাজার

1

এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ ও মাহফুজ

2

ইয়েমেন বিমানবন্দরে অবতরণের অনুমতি পেলো না সৌদি প্রতিনিধি

3

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ নিম্নচাপে পরিণত, ১ নম্বর সতর্ক সংকে

4

চাঁদা দিতে হুমকি, পুলিশের পাহারায় হলো রাস্তার কাজ

5

হাদিকে সিঙ্গাপুর নিতে শাহজালালে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স অবতরণ

6

প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির ৩ মামলায় হাসিনার ২১ বছরের কারাদণ্ড

7

ভেনেজুয়েলায় হামলা চালিয়ে মাদুরোকে আটক আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন:

8

রাজাকার বলায় জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

9

সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা প্রাথমিক শ

10

বেগম জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে তিন বাহিনী প্রধান

11

ঝিনাইদহে রমরমা সুদের কারবারে পথে বসছে হাজারো মানুষ

12

সুন্দরবনে যৌথ অভিযান: ডাকাত মাসুমের জিম্মিদশা থেকে পর্যটক ও

13

দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

14

হল ছাড়তে শুরু করেছেন ঢাবির আবাসিক শিক্ষার্থীরা

15

সাঁওতাল পল্লীতে নারীপক্ষ উদযাপন: বৈষম্য দূর করার আহ্বান

16

ভৈরবকে জেলা করার ‘পুরানো টোপ’ দিলেন শরীফুল আলম, প্রয়াত নেতাদ

17

ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য এই নির্বাচন করছি না: নাহিদ ইসলাম

18

নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে দেশজুড়ে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান

19

আমদানি হলেও দেশি পেঁয়াজের দামে বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় পেঁয়াজ

20
সর্বশেষ সব খবর