Deleted
প্রকাশ : সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫, ০৩:৩৪ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

ট্রাফিক বিভাগে অনিয়ম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ

ট্রাফিক বিভাগে অনিয়ম: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পরিবহন শ্রমিকদের বিক্ষোভ

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ট্রাফিক বিভাগের নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকাল থেকে জেলা শহরের কাউতলী এলাকায় অবস্থান নিয়ে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেন তারা। সড়ক পরিবহন মালিক–শ্রমিক ঐক্য পরিষদ-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়, যা কিছু সময়ের জন্য যান চলাচলে সাময়িক জটিলতা সৃষ্টি করে।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, যানবাহনের নিয়মিত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা নানা অজুহাতে যানবাহন থামিয়ে অতিরিক্ত জরিমানা আদায় করছেন। তাদের অভিযোগ, মোটরসাইকেল, সিএনজি, পিকআপ ও বাস—সব ধরনের যানবাহনেই 'চেকিংয়ের নামে' অযথা হয়রানি করা হচ্ছে।

তাদের অভিযোগের মূল কেন্দ্রে ছিলেন ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ার। বক্তারা তার অপসারণ দাবি করেন এবং বলেন, একজন কর্মকর্তার খামখেয়ালিপনায় পুরো পরিবহন খাতকে জিম্মি করে রাখা হবে না। তাদের মতে, মীর আনোয়ারের নেতৃত্বে ট্রাফিক বিভাগের অনিয়ম, অযাচিত জরিমানা, রিকুইজিশনের নামে হয়রানি এবং ব্যক্তিগত স্বার্থে চালকদের উপর বাড়তি চাপ পরিবহন খাতে চরম অস্থিরতা তৈরি করেছে।

মানববন্ধনে বিপুল সংখ্যক পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের অংশগ্রহণে এলাকা স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। তারা অভিযোগ করেন, সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাফিক পুলিশের ভূমিকা থাকা উচিত। কিন্তু কাগজপত্র ঠিক থাকলেও তাদের বিভিন্ন অনৈতিক দাবির কারণে চালকদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, যার ফলে পরিবহন মালিক-চালক উভয়েই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভকারীরা অনিয়ম বন্ধ, স্বচ্ছতা নিশ্চিতে কার্যকর মনিটরিং এবং হয়রানি বন্ধে নির্দেশনা জারির দাবি জানিয়েছেন। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতারা সাত দফা দাবির একটি স্মারকলিপি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেন।

তাদের দাবিসমূহ:

  • ট্রাফিক ইন্সপেক্টর মীর আনোয়ারকে অপসারণ ও ট্রাফিক বিভাগের দুর্নীতি বন্ধ করা।

  • আটক গাড়ি মালিকদের জিম্মায় দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া।

  • পরিবহন নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা।

  • শহরে মালবাহী যানবাহনের সময়সূচি পুনঃনির্ধারণ এবং বাঁশবাজার এলাকায় ট্রাক লোড–আনলোডের স্থায়ী ব্যবস্থা করা।

  • মহাসড়কে অযান্ত্রিক যান চলাচল বন্ধ করা।

  • সহজ শর্তে ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান।

  • রিকুইজিশনের নামে হয়রানি বন্ধ করে রিকুইজিশনকৃত গাড়ির মালিক–চালকদের সরকারি ভাতা নিশ্চিত করা।

মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের আহ্বায়ক মোহাম্মদ নিয়ামত খান, সদস্য সচিব মো. মেরাজ ইসলাম, জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. হানিফ মিয়া, সহ-সভাপতি ছোট্টু মিয়া সহ অন্যান্য শ্রমিক নেতা।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যে ৬৩ আসনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি

1

বাধা দিয়ে কেউ নির্বাচন ঠেকাতে পারবে না: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

2

হঠাৎ অবশ হয়ে যাওয়া 'জিবিএস' রোগ

3

১৫ মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যু ১১২

4

সাতক্ষীরায় সড়ক দুর্ঘটনায় সাবেক ছাত্রদল নেতা নিহত

5

বেগম জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল

6

‘এ’ ক্যাটাগরিতে শীর্ষ ৮১ সরকারি কলেজ

7

সিসিইউতে খালেদা জিয়া

8

মিয়ানমার থেকে গুলি এসে লাগলো বাংলাদেশির গায়ে

9

'আমরা কাঁদতে নয়, ফাঁসির দাবি নিয়ে এসেছি'

10

খাতা-কলমে উন্নয়ন, বাস্তবে নেই ছিটেফোঁটাও

11

শেখ হাসিনা খালাস পেলে খুশি হতাম: আইনজীবী আমির হোসেন

12

নির্বাচন কমিশন ইনসাফে বিশ্বাসী, আগের মতো পাতানো নির্বাচন হবে

13

ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টা

14

বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে ভারতীয় নাগরিকদের: মমতা

15

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে দণ্ডিত বাংলাদেশীদের ক্ষমা করলো আমিরাত

16

ডনবাসকে নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব জেলেনস্কির

17

বছরের প্রথম দিনেই শতভাগ বই পেলো প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

18

রেললাইন খুলে ফেলায় ট্রেন লাইনচ্যুত, বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা

19

দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না ভারত

20
সর্বশেষ সব খবর