Deleted
প্রকাশ : রবিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:৩১ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

দ্বিতীয় বিয়ে করতে লাগবে না প্রথম স্ত্রীর অনুমতি: হাইকোর্ট

মুসলিম আইনানুযায়ী পুরুষের জন্য দ্বিতীয় বিয়ে জায়েজ থাকলেও বাংলাদেশের প্রচলিত আইনি ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে এটি এতদিন দণ্ডনীয় অপরাধ ও নৈতিকতার চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হতো। তবে সম্প্রতি হাইকোর্টের এক পূর্ণাঙ্গ রায়ে বহু বছর ধরে চলে আসা এই আইনি ব্যাখ্যায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় বিয়ের ক্ষেত্রে প্রথম স্ত্রীর ব্যক্তিগত অনুমতির চেয়ে ‘আরবিট্রেশন কাউন্সিল’ বা সালিশি পরিষদের অনুমতিই এখন থেকে আইনি মানদণ্ড হিসেবে গণ্য হবে।

মুসলিম পারিবারিক আইন সংশ্লিষ্ট একটি রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট এই রায় প্রদান করেন। ২৪ পাতার পূর্ণাঙ্গ রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, দ্বিতীয় বিয়ের জন্য স্ত্রীর অনুমতি গ্রহণ নৈতিক বিষয় হতে পারে, তবে আইনি বাধ্যবাধকতা হিসেবে সরাসরি এমন কোনো অস্তিত্ব মুসলিম পারিবারিক আইনে নেই। বরং বিষয়টি নিষ্পত্তির চূড়ান্ত দায়িত্ব ন্যস্ত থাকে আরবিট্রেশন কাউন্সিলের ওপর।

আদালতের রায়ে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধি এবং ১৯৬১ সালের মুসলিম পারিবারিক আইনের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়। ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৪৯৪ ধারায় স্বামী বা স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া দ্বিতীয় বিয়ে করলে সাত বছরের কারাদণ্ডের বিধান ছিল। পরবর্তীতে ১৯৬১ সালে মুসলিম পারিবারিক আইন প্রবর্তনের মাধ্যমে নারীর ক্ষেত্রে ওই সাজা বহাল থাকলেও পুরুষের দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি ঠেলে দেওয়া হয় আরবিট্রেশন কাউন্সিলের অনুমতির ওপর। সেক্ষেত্রে অনুমতি ছাড়া বিয়ে করলে এক বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়।

হাইকোর্ট তাঁর রায়ে স্পষ্ট করেছেন যে, যেহেতু অনুমতির বিষয়টি সালিশি পরিষদের এখতিয়ারভুক্ত, তাই স্ত্রীর সরাসরি অনুমতি এখানে বাধ্যতামূলক নয়। পরিষদ যদি সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে অনুমতি প্রদান করে, তবে সেটি আইনত বৈধ হিসেবেই গণ্য হবে।

হাইকোর্টের এই রায়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন রিট আবেদনকারীরা। তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছেন। তাঁদের দাবি, প্রথম স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক না থাকলে সমাজে বহুবিবাহের প্রবণতা বেড়ে যাবে এবং পারিবারিক শৃঙ্খলা ও নারীর সুরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়বে। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে সমান অধিকার ও আইনি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই তাঁরা এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

আইনজ্ঞদের মতে, এই রায় দেশের পারিবারিক আদালতগুলোর মামলা নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন আপিল বিভাগের রায়ের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।


মারুফ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সর্বমিত্রর ভিডিও শেয়ার করে যা বললেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

1

হজের অনুমতি মিলবে না দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্তদের

2

মাদারগঞ্জে পৌর যুবদল নেতাসহ ৯ জুয়াড়ি আটক

3

বিএনপির প্রার্থী তালিকায় নেই রুমিন ফারহানার নাম

4

চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে খালেদা জিয়া

5

যুক্তরাষ্ট্র সক্ষমতার পরীক্ষা নিতে চাইলে ইরান যুদ্ধের জন্য প

6

হাসিনার রায় ঘিরে ছড়িয়ে পড়া ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের ছবি সরান

7

ঢাকায় ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে

8

মুমিনুল ভেবেছিলেন আজ মুশফিকের রিটায়ারমেন্ট

9

আগামী নির্বাচন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ : প্রধান উপদেষ

10

তিন উপদেষ্টা একটি দলের হয়ে কাজ করছেন: ডা. তাহের

11

এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

12

রাজাকার বলায় জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের সংঘর্ষ, আহত ১৫

13

বেগম জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ারে প্রধান উপদেষ্টা

14

যুবদল নেতা কিবরিয়া হত্যায় বেরিয়ে আসছে যেসব তথ্য

15

কর্মকর্তাদের অনিয়মের দায় চাপল ঝাড়ুদারের কাঁধে: ডিসির পরিদর্শ

16

খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে বিএনপির ৭ দিনের শোক

17

পদত্যাগ করলেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা

18

ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়াল ৯০ হাজার

19

ভোটের জন্য প্রবাসী নিবন্ধন ছাড়াল ৯২ হাজার

20
সর্বশেষ সব খবর