Ziaur Rahman Bokul
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

থেমে গেল রাজনীতির মহাকাব্য, বাংলার আকাশে নক্ষত্রপতন

থেমে গেল রাজনীতির মহাকাব্য, বাংলার আকাশে নক্ষত্রপতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম প্রধান স্তম্ভ, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া আর নেই। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডা. জাহিদ।

গৃহবধূ থেকে রাজনীতির ‘হাইওয়ে’তে: ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুর জেলায় জন্মগ্রহণকারী খালেদা জিয়া ছিলেন নিতান্তই একজন গৃহবধূ। ১৯৬০ সালে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তবে ১৯৮১ সালে স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর সৃষ্ট পরিস্থিতি তাকে রাজনীতির কঠিন পথে টেনে আনে। ১৯৮২ সালের ২ জানুয়ারি সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৮৪ সালের আগস্টে দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও ‘আপোষহীন’ উপাধি: জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন এক মূর্ত প্রতীক। ১৯৮৩ সালে সাত দলীয় জোট গঠন করে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলন শুরু করেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত অংশ নিলেও খালেদা জিয়া তা বর্জন করেন। তার এই অনড় অবস্থানের কারণে ১৯৮৩ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তাকে সাতবার আটক হতে হয়। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে তার এই ভূমিকার জন্যই তিনি ‘আপোষহীন নেত্রী’ হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।

রাষ্ট্র পরিচালনায় নারী নেতৃত্বের ইতিহাস: ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী সরকারপ্রধান। তার শাসনামলে বাংলাদেশ রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার থেকে সংসদীয় গণতন্ত্রে ফিরে আসে।

  • অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন: তার মেয়াদে তৈরি পোশাকশিল্পে ব্যাপক প্রবৃদ্ধি ঘটে এবং প্রায় দুই লাখ নারী এই খাতে যুক্ত হন। তিনি অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা, দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি চালু করেন। সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করেন।

  • কূটনৈতিক সাফল্য: জাতিসংঘে গঙ্গার পানি বণ্টন এবং হোয়াইট হাউসে রোহিঙ্গা ইস্যু জোরালোভাবে উত্থাপন করেন তিনি।

নির্বাচনী রেকর্ড: বেগম জিয়া বাংলাদেশের নির্বাচনী ইতিহাসে এক অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত যতবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, কখনোই কোনো আসেনে পরাজিত হননি। ১৯৯১ থেকে ২০০১ পর্যন্ত পাঁচটি করে এবং ২০০৮ সালে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সবকটিতেই জয়লাভ করেন।

শেষ জীবন ও বিদায়: ২০০৭ সালে ১/১১-এর সরকারের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার পরিবারকে নির্বাসনে পাঠানোর চেষ্টা চলে। পরবর্তীতে বিভিন্ন আইনি জটিলতা ও অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে আসছিলেন তিনি। মঙ্গলবার ভোরে এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগের মাধ্যমে ইতি ঘটল বাংলাদেশের রাজনীতির এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

মাদারীপুরে কাভার্ডভ্যানের চাপায় নিহত ৩

1

পদত্যাগ করলেন দুই ছাত্র উপদেষ্টা

2

সংকটময় মুহূর্ত পার করছেন খালেদা জিয়া: ডা. জাহিদ

3

নির্বাচন নিয়ে বহির্বিশ্বের কোনো চাপ নেই: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

4

পুলিশে ১৫ অতিরিক্ত ও সহকারী পুলিশ সুপারকে বদলি

5

২০২৫ সালে অবৈধ পথে ইউরোপে প্রবেশের শীর্ষে বাংলাদেশ

6

দেশনেত্রীকে শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় পাকিস্তানের স্পিকার

7

ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় তেলবাহী জাহাজ জব্দ করলো যুক্তরাষ্ট্র

8

জেবুকে ঘিরে কৌতূহল দেখে মজা পাচ্ছে জাইমা রহমান

9

দেশের বাজারে আবারো কমল স্বর্ণের দাম

10

নির্বাচন নাকি বন্দুকের মুখে নাটক

11

আজ বায়ুদূষণে শীর্ষে ঢাকা, তৃতীয়তে দিল্লি

12

বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা

13

বেগম জিয়া: এক টুকরো সুখ ও দুঃখের উজ্জ্বল স্মৃতি

14

আসছে এনসিপিসহ ৩ দলের সমন্বয়ে নতুন রাজনৈতিক জোট

15

ফের শিক্ষকদের টানা কর্মবিরতি শুরু, বন্ধ ক্লাস

16

সিইসির ভাষণ সম্প্রচারের প্রস্তুতি নিতে বিটিভি-বেতারকে ইসির চ

17

খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় মোদির উদ্বেগ, সহায়তার আশ্বাস

18

যেসব শর্ত না পূরন হলে শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বন্ধ

19

খালেদা জিয়া আগামী প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত: ড. কামা

20
সর্বশেষ সব খবর