Deleted
প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:১৭ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ৭

নাইজেরিয়ায় মসজিদে বোমা বিস্ফোরণ, নিহত কমপক্ষে ৭

নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাইদুগুরি শহরে একটি মসজিদে বিস্ফোরণে অন্তত সাতজন মুসল্লি নিহত হয়েছেন। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও নিরাপত্তা সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেনি। 

মাইদুগুরি বোর্নো রাজ্যের রাজধানী।

এই রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে চরমপন্থী গোষ্ঠী বোকো হারাম এবং ইসলামিক স্টেট পশ্চিম আফ্রিকা প্রদেশ (আইএসডব্লিউএপি)-এর একটি শাখার বিদ্রোহ চলছে। তবে শহরটি নিজে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সন্ধ্যার নামাজের সময় শহরের গাম্বোরু বাজার এলাকার একটি জনাকীর্ণ মসজিদের ভেতরে বিস্ফোরণ ঘটে। মসজিদের ইমাম মালাম আবুনা ইউসুফ নিহতের সংখ্যা আটজন বলে দাবি করেছেন।

তবে বিরোধী মিলিশিয়া-বিরোধী নেতা বাবাকুরা কোলো জানান, নিহতের সংখ্যা সাত। কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করেননি।

কোলো বলেন, ‘বোমাটি মসজিদের ভেতরে রাখা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং নামাজ চলাকালীন সেটি বিস্ফোরিত হয়। অন্যদিকে কিছু প্রত্যক্ষদর্শী এটিকে আত্মঘাতী বোমা হামলা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। আহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।’

তবে প্রত্যক্ষদর্শী ইসা মুসা ইউশাউ বলেন, ‘তিনি অনেক আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যেতে দেখেছেন। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে মসজিদের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় একজন ব্যক্তিকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।’

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সাল থেকে নাইজেরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সংঘাতে অন্তত ৪০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে এবং প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এক দশক আগে সহিংসতা চরমে পৌঁছালেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কিছুটা কমে আসে। তবে এই সংঘাত প্রতিবেশী নাইজার, চাদ ও ক্যামেরুনেও ছড়িয়ে পড়েছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, চলতি বছরে উত্তর-পূর্ব নাইজেরিয়ার কিছু অংশে চরমপন্থী সহিংসতা আবারও বাড়তে পারে। মাইদুগুরি শহরটি একসময় নিয়মিত বন্দুকযুদ্ধ ও বোমা হামলার সাক্ষী হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুলনামূলক শান্ত ছিল। শহরে সর্বশেষ বড় হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয় ২০২১ সালে।

তবে রাজ্যের রাজধানীতে সংঘাতের স্মৃতি এখনো স্পষ্ট। এখানে বড় সামরিক অভিযানের সদর দপ্তর অবস্থিত। প্রতিদিন সামরিক পিকআপ টহল দেয়, সন্ধ্যায় চেকপোস্ট কার্যকর থাকে এবং একসময় আগেভাগে বন্ধ হয়ে যাওয়া বাজারগুলো এখন রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। এদিকে গ্রামাঞ্চলে বিদ্রোহ অব্যাহত রয়েছে, যা নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সূত্র : রয়টার্স

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

৫ দাবিতে ঢাকায় মহাসমাবেশের ঘোষণা ৮ দলের

1

আমজনতার দলের হয়ে লড়বেন হিরো আলম, চাইলেন ব্যক্তিগত গানম্যান

2

মানিকগঞ্জ ১ আসনে বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তনের দাবিতে সংবাদ সম

3

জুলাই হত্যাযজ্ঞ: কাদের-আরাফাতসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পর

4

তরুণদের মতামত নিতে ওয়েব অ্যাপ চালু করল বিএনপি

5

মনোনয়ন হারালেন আরো ১৭ প্রার্থী

6

শিক্ষক নিয়োগে আসছে বড় সুখবর

7

দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন খালেদা জিয়া

8

রেলের ৬৪ শতাংশ পথই ট্রেন চলাচলের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ

9

ফের বিশ্ববাজারে বাড়ল স্বর্ণের দাম

10

বেগম জিয়াকে লন্ডনে নেওয়া হবে শুক্রবার সকালে : ডা. জাহিদ

11

হাদির শুটার ফয়সালের সাথে ইসলামি দলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততা

12

খালেদা জিয়ার মৃত্যু একটি বড় ধাক্কা: জয়

13

আজ তারেক রহমানের জন্মদিন

14

গ্রুপিং রাজনীতি: মাগুরা-২ আসনে ধানের শীষের ভরাডুবির শঙ্কা

15

কড়াইল বস্তির আগুনে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে সহায়তা করবে সরক

16

বিটিআরসি ঘেরাও করে মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলন

17

বৃদ্ধি হলো সেনাবাহিনীর সৈনিক পদে নিয়োগে বয়সসীমা

18

বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান

19

স্বর্ণের দামে নতুন রেকর্ড, ভরি ছাড়াল আড়াই লাখ টাকা

20
সর্বশেষ সব খবর