Ziaur Rahman Bokul
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে সহায়তার আশ্বাস এফএও মহাপরিচালকের

গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণে সহায়তার আশ্বাস এফএও মহাপরিচালকের

বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র মৎস্য আহরণ খাতের উন্নয়ন এবং কৃষিপণ্য, বিশেষ করে ফল রফতানি বাড়াতে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) মহাপরিচালক কু ডংউই।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) স্থানীয় সময় ইতালির রোমে এফএও সদর দফতরে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে তিনি এই আশ্বাস দেন। বৈঠকে এফএও মহাপরিচালক প্রধান উপদেষ্টাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে অধ্যাপক ইউনূসের দীর্ঘদিনের অবদানের প্রশংসা করেন।

বাংলাদেশকে ‘উচ্চ সাফল্য অর্জনকারী দেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে এফএও মহাপরিচালক বলেন, সংস্থাটি প্রযুক্তিগত সহায়তা, উদ্ভাবন এবং দক্ষিণ-দক্ষিণ ও ত্রিমুখী সহযোগিতার মাধ্যমে বাংলাদেশকে সহায়তা অব্যাহত রাখবে।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের সহায়তা অব্যাহত রাখব।

প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস এফএও’র দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনটি নতুন ক্ষেত্রে সহায়তা চান, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ ও মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণে সক্ষমতা বৃদ্ধি, ফল রফতানি সম্প্রসারণে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ উন্নয়ন এবং ফসল সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, যার মধ্যে সাশ্রয়ী ও বহনযোগ্য কোল্ড স্টোরেজ স্থাপন অন্তর্ভুক্ত।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, আমাদের পুরো সমুদ্র রয়েছে, কিন্তু আমরা মাছ ধরি অগভীর জলে। আমরা কখনোই সামুদ্রিক সম্পদ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারিনি। বিদেশি ট্রলারগুলো আমাদের জলসীমায় মাছ ধরে, অথচ আমরা পর্যাপ্তভাবে প্রস্তুত নই।

এর জবাবে ড. কু পরামর্শ দেন, বাংলাদেশ যেন চীনের বিশেষজ্ঞদের আমন্ত্রণ জানিয়ে গভীর সমুদ্রের মাছের মজুদ নিরূপণ ও টেকসই আহরণ কৌশল প্রণয়নে সহায়তা নেয়।

বাংলাদেশের ফল রফতানির বিশাল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, চীন ইতোমধ্যেই বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তিনি ছোট কৃষকদের ফসল সংগ্রহোত্তর ক্ষতি কমাতে মোবাইল কোল্ড স্টোরেজ নকশার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

ড. কু বলেন, উচ্চমূল্যের নগদ ফল উৎপাদন কৃষি খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ১৯৮০-এর দশকে জাপানে ফল রফতানির মাধ্যমে চীন কৃষি উন্নয়নে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছিল।

আগামী দিনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রাপ্তির ২০ বছর পূর্ণ হবে। আমরা তা উদযাপন করব, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ এবং পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

 


 

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

1

মাদুরোকে রাখা হবে নিউইয়র্কের ডিটেনশন সেন্টারে

2

ধর্মের নামে ট্যাবলেট বিক্রি করে প্রতারণা করা দলের মুখোশ উন্ম

3

নোয়াখালী এক্সপ্রেসের কোচ সুজন

4

বিটিআরসি ঘেরাও করে মোবাইল ব্যবসায়ীদের আন্দোলন

5

ভোটার তালিকায় তারেক-জাইমার নাম অন্তর্ভুক্তির সিদ্ধান্ত রবিবা

6

শিক্ষক নিয়োগে আসছে বড় সুখবর

7

যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় চলছে ইসরাইলি হত্যাযজ্ঞ, নিহত ৯৭

8

এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা, কে কোন আসনে লড়বেন

9

ডনবাসকে নিরস্ত্রীকরণ অঞ্চল গঠনের প্রস্তাব জেলেনস্কির

10

বেলা ১১টায় বসবে হাসিনার মামলার রায়ের ট্রাইব্যুনাল

11

হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের শাহবাগ অবরোধ

12

শেখ হাসিনা ভারত থেকে নাশকতার নির্দেশনা দিচ্ছেন: রিজভী

13

অনাহারে আফ্রিকায় ৬০ হাজার পেঙ্গুইনের মৃত্যু

14

দেশে ২০২৫ সালে সড়কে ঝরেছে ৯১১১ প্রাণ

15

বোটানিক্যাল গার্ডেনে চালু হলো ‘খালি পায়ে হাঁটার পথ’

16

ভোটের দিন ঘনালে উন্নত হবে আইনশৃঙ্খলা: সিইসি

17

শ্রীমঙ্গলে ফ্রিজ ও টিভি কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

18

ধানমন্ডি ৩২-এর সামনে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

19

বাউলের কটূক্তি: মানিকগঞ্জে তাওহিদী জনতার সংবাদ সম্মেলন, বিশৃ

20
সর্বশেষ সব খবর