Deleted
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

রাষ্ট্র পরিচালনায় সিদ্ধান্ত কার?

রাষ্ট্র পরিচালনায় সিদ্ধান্ত কার?

খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল

বাংলাদেশ আজ এক জটিল রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে গঠিত ঐকমত্য কমিশন ও জুলাই সনদ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা শুধু সংবিধান সংশোধনের প্রশ্ন নয়—এটি রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক ভিত্তি নিয়েও প্রশ্ন তুলছে। রাজনীতি দুর্বল হয়েছে, কিন্তু সেই দুর্বলতার চিকিৎসা কি সুশীল সমাজের হাতে নিরাপদ? ইতিহাস বলছে, কখনোই নয়।

২০০৬-০৮ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার হোক বা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার—প্রতিবারই সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা “সংস্কারের” নামে জনগণ থেকে দূরে সরে গিয়ে ক্ষমতার কেন্দ্রে নিজেদের স্থাপন করেছেন। তাদের ভাষ্য ছিল—“জনগণ বুঝে না, আমরা জানি দেশের মঙ্গল কী।” এই অহংকার থেকেই সৃষ্টি হয়েছে অনৈক্য, অবিশ্বাস ও গণতন্ত্রের ক্ষয়। আজকের ঐকমত্য কমিশনও যেন সেই পুরোনো ফাঁদ নতুন মোড়কে হাজির করেছে।
সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাব ও রেফারেন্ডাম নিয়ে সরকার ও কমিশনের সিদ্ধান্ত জনগণকে আরও বিভ্রান্ত করেছে। সংবিধান রাষ্ট্রের প্রাণ, এটি কোনো নির্বাহী আদেশে বা কমিশনের পরামর্শে পরিবর্তনযোগ্য নয়। সংসদই সংবিধানের একমাত্র রক্ষক—নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাই জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে পারেন। অথচ কমিশনের সর্বশেষ প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংসদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার বাস্তবায়ন না করলে সংশোধন স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে। এটি কেবল অসাংবিধানিক নয়, সরাসরি সংসদের ওপর চাপ সৃষ্টি করার একটি বিপজ্জনক নজির।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংস্কার ও গণভোট প্রক্রিয়া এমন সময়ে হচ্ছে যখন দেশে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সহিংসতা ও পারস্পরিক অবিশ্বাস চরমে। এমন অবস্থায় গণভোটের প্রশ্ন জনগণের বোঝার বাইরে চলে যাচ্ছে। অধিকাংশ ভোটারই জানে না “জুলাই সনদ” আসলে কী পরিবর্তন আনতে চায়। এই অস্পষ্টতা গণতন্ত্রের শত্রু—কারণ তথ্যহীন মানুষ স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
রাজনীতিকদের ভুল কিছু ক্ষেত্রে স্পষ্ট, কিন্তু তার দায়ে রাজনীতিকদের বাদ দিয়ে সুশীল সমাজকে রাষ্ট্র পরিচালনায় বসানো গণতন্ত্রের সমাধান নয়। রাজনীতি যতই নোংরা হোক, তার পরিশোধনের দায়িত্বও রাজনীতির মধ্যেই নিহিত। নির্বাচিত নেতাদের জবাবদিহিতা আছে, কিন্তু অ–নির্বাচিত বুদ্ধিজীবীদের নেই। ফলে, যখন তারা রাষ্ট্রক্ষমতার ফাঁক গলে ঢোকে, তখন জনগণ সিদ্ধান্তের বাইরে পড়ে যায়।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো—সংবিধান সংশোধন বা গণভোট নয়, বরং দ্রুত একটি নির্বাচিত সংসদ গঠন করা, যাতে সব মত ও বিরোধ এক সংসদীয় কাঠামোর মধ্যেই আলোচনায় আসতে পারে। ঐকমত্য কমিশন কিংবা সুশীল সমাজের মধ্যস্থতা নয়, জনগণের ভোটই হোক রাষ্ট্রের দিকনির্দেশনার একমাত্র ভিত্তি।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থেকে জন্ম নিয়েছিল—জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার বিশ্বাসে। সেই বিশ্বাস আজও অক্ষুণ্ণ রাখা জরুরি। জনগণকে বোকার মতো ধরে রেখে সংস্কারের নামে আরেকটি এলিট-শাসন প্রতিষ্ঠা হলে, গণতন্ত্র আবারও গভীর খাদে পড়ে যাবে।
রাষ্ট্রের নেতৃত্ব রাজনীতিকদেরই নিতে হবে—তাদের ত্রুটি থাকলেও, জবাবদিহিতা আছে। সুশীল সমাজের উপদেশ নয়, জনগণের ভোটই হোক এই রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একমাত্র ভাষা।


মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

‘ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে গেলে ঝুঁকিতে থাকবে বাংলাদেশ দল’

1

তীব্র কুয়াশায় শাহজালালে নামতে পারেনি ৮ ফ্লাইট

2

আমিই ইসরাইলকে ইরানে আক্রমণের দায়িত্ব দিয়েছিলাম: ট্রাম্প

3

‘জামায়াত ক্ষমতায় এলে মানুষ শান্তিতে ঘুমাবে’: কটিয়াদীতে শফিকু

4

সীমান্তে বিজিবির হাতে বিএসএফ সদস্য আটক

5

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্লুটোনিয়াম চুক্তি চূড়ান্তভাবে বাতিল ক

6

ওসমান হাদিকে ‘গিনিপিগ’ বললেন বিএনপি নেত্রী, সমালোচনার ঝড়

7

জনমত জরিপ: ৭০ শতাংশ ভোটারের পছন্দ বিএনপি, দ্বিতীয় অবস্থানে জ

8

কাল সন্ধ্যা ৬টায় জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা

9

বিটিআরসি কার্যালয়ে ব্যবসায়ীদের হামলা-ভাঙচুর

10

জকসুর ২৬ কেন্দ্রের ফল ঘোষণা, শীর্ষ তিন পদে এগিয়ে শিবির

11

কিভাবে রাঁধবেন গরুর কালাভুনা ?

12

শতাধিক হাফেজ নিয়ে বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া

13

নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে করতে ইসিকে সরকারের চিঠি

14

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

15

শান্তি চায় না মস্কো: জেলেনস্কি

16

ফিরছেন কামিন্স , ব্রিসবেনে থাকছেন না হ্যাজেলউড

17

হজযাত্রীদের বিমান ভাড়ায় অনিশ্চয়তা

18

জান্নাতের টিকিট দিতে পারব না, তবে উন্নয়ন নিশ্চিত করব: মির্জা

19

বন্ধ হচ্ছে তিন ধরনের মোবাইল ফোন

20
সর্বশেষ সব খবর