Ziaur Rahman Bokul
প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

হচ্ছে না জামাত-ইসলামী আন্দোলন জোট

হচ্ছে না জামাত-ইসলামী আন্দোলন জোট

মুহসিন মোল্লা, ঢাকা: দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা আর নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট হচ্ছে না চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি)। গতকাল রাতে ইসলামী আন্দোলনের সকল প্রার্থীদের নিয়ে জোট গঠনের প্রশ্নে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় দলের সিংহভাগ প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী অ্যালায়েন্স বা জোটের বিপক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসলামী আন্দোলনের একাধিক শীর্ষ নেতা ও নীতিনির্ধারক ‘দৈনিক সকালবেলা’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

​দলীয় সূত্র জানায়, গতকালের রুদ্ধদ্বার বৈঠকে প্রার্থীরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। সেখানে অধিকাংশ প্রার্থীই স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, তারা জামায়াতের সঙ্গে জোটে গিয়ে দলীয় আদর্শ বা প্রতীকের স্বকীয়তা বিসর্জন দিতে রাজি নন। বিশেষ করে জোট গঠনের আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর ‘মোড়লিপনা’ বা একক আধিপত্য বিস্তারের মনোভাবকে ভালোভাবে নেননি ইসলামী আন্দোলনের মাঠপর্যায়ের নেতারা। সূত্রমতে, জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্রদের মতোই ইসলামী আন্দোলনকেও খুব সামান্য সংখ্যক আসনে ছাড় দিয়ে নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিল। জানা গেছে, জামায়াত প্রাথমিক আলোচনায় ইসলামী আন্দোলনকে যে কয়টি আসন দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল, তা আইএবির মতো বৃহৎ ভোটব্যাংক সমৃদ্ধ দলের জন্য ছিল অপমানজনক। দলের তৃণমূলের নেতারা মনে করেন, গত কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় নির্বাচনে এককভাবে লড়াই করে ইসলামী আন্দোলন নিজেদের দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রমাণ করেছে। এই অবস্থায় জামায়াতের ‘বড় ভাই’ সুলভ আচরণ মেনে নিয়ে জোটভুক্ত হওয়াকে দলের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তারা।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলের মধ্যে আদর্শিক মিল থাকলেও ভোটের মাঠে সমীকরণ ভিন্ন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গত এক দশকে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত্তি ও ভোট ব্যাংক উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করেছে। অন্যদিকে, জামায়াত জোটের নামে নেতৃত্ব নিজেদের হাতেই কুক্ষিগত রাখতে চায়, যা চরমোনাই পীরের অনুসারীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে। অতীতের ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, এর আগেও একাধিকবার ইসলামি দলগুলোর ঐক্যের ডাক দেওয়া হলেও নেতৃত্বের প্রশ্নে এবং জামায়াতের অনমনীয় আচরণের কারণে তা আলোর মুখ দেখেনি। এবারের বৈঠকেও প্রার্থীরা মত দিয়েছেন যে, কারও ‘লেজুড়বৃত্তি’ করে ক্ষমতায় যাওয়ার চেয়ে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে এককভাবে লড়াই করাই দলের ভবিষ্যতের জন্য সম্মানজনক। যদিও এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, তবে গত রাতের বৈঠকের পর জোট না হওয়ার বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

​এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশালে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে জামায়াত নেতাকে পিটিয়ে জখম, হাস

1

উৎসবমুখর পরিবেশে নেতাকে বরণে ঢাকামুখী জনস্রোত

2

জামায়াতকে আবার নিষিদ্ধ করা হোক: আলাল

3

নির্বাচন ঘিরে দেশে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই: নাহিদ ইসলাম

4

ফের গাজায় ইসরাইলি হামলা, নিহত ২৪

5

ঢাকা কলেজ ও আইডিয়াল কলেজের শিক্ষার্থীদের ঐতিহাসিক 'শান্তিচু

6

আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন তারেক রহমান

7

বিএনপির দপ্তরে মনোনয়নবঞ্চিতদের অভিযোগ, তৃণমূলে অস্থিরতা চরমে

8

ইসি বলছে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে, শঙ্কায় প্রার্থীরা

9

গণভোটে একমত হতে দলগুলোকে এক সপ্তাহ সময় দিল উপদেষ্টা পরিষদ

10

তারেক রহমানের দেশে ফেরা উপলক্ষ্যে বিএনপির নতুন কর্মসূচি

11

ঢাবিতে ‘শেখ মুজিবুর রহমান’ হলের নামফলক বদলে রাখা হলো ‘ওসমান

12

কিশোরগঞ্জ-১ আসনে ত্যাগের প্রতীক ভিপি সোহেল

13

১৫ মাসে কারা হেফাজতে মৃত্যু ১১২

14

থামানো গেছে বেগম জিয়ার অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ

15

আইপিএলে সর্বোচ্চ ভিত্তিমূল্যে মোস্তাফিজ, সাকিব ১ কোটিতে

16

শিক্ষার্থীদের শাহবাগ অবরোধে ব্যাহত যান চলাচল

17

মুস্তাফিজকে বাদ দিয়ে কেকেআর-এর বিবৃতি

18

নুরকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি, যা জানা গেল

19

মোটরসাইকেল থেকে ছোঁড়া গুলি লেগেছে হাদির কানের নিচে

20
সর্বশেষ সব খবর