Ziaur Rahman Bokul
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৫৮ অপরাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট: কে এই নিকোলাস মাদুরো?

বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট: কে এই নিকোলাস মাদুরো?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একসময় তিনি কারাকাসের রাস্তায় বাস চালাতেন, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া তুলতেন। সেই তিনিই একদিন বসেছিলেন ভেনেজুয়েলার মসনদে। দোর্দণ্ড প্রতাপে শাসন করেছেন প্রায় এক যুগ। ১২ বছরের সেই শাসনের অবসান ঘটল আজ মার্কিন ডেল্টা ফোর্সের হাতে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু কে এই নিকোলাস মাদুরো? কীভাবে একজন সাধারণ পরিবহন শ্রমিক থেকে তিনি হয়ে উঠলেন লাতিন আমেরিকার অন্যতম আলোচিত ও বিতর্কিত রাষ্ট্রনায়ক?

লক্করঝক্কর বাসের চালক থেকে রাজনীতিতে: ১৯৬২ সালের ২৩ নভেম্বর এক সাধারণ শ্রমজীবী পরিবারে জন্ম মাদুরোর। বাবা ছিলেন ট্রেড ইউনিয়ন নেতা। বাবার আদর্শেই বড় হয়েছেন। ১৯৯২ সালে যখন ভেনেজুয়েলায় হুগো চাভেজ ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থান ঘটান, তখন মাদুরো ছিলেন কারাকাসের মেট্রো বাস সার্ভিসের একজন সাধারণ চালক। চালকের আসনে বসেই তিনি জড়িয়ে পড়েন ট্রেড ইউনিয়ন রাজনীতিতে।

চাভেজের ‘মানসপুত্র’: হুগো চাভেজের কারাবরণই মাদুরোর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বাস চালক মাদুরো চাভেজের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামেন, লিফলেট বিলি করেন এবং ক্যাম্পেইন চালান। জেল থেকে বের হওয়ার পর চাভেজের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও ঘনিষ্ঠ সহচরে পরিণত হন তিনি। চাভেজ তাকে এতটাই বিশ্বাস করতেন যে, ১৯৯৮ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মাদুরোকে জাতীয় পরিষদের স্পিকার এবং পরবর্তীতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করেন। মাদুরো বিশ্বজুড়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন চাভেজের ‘তেল কূটনীতি’র ফেরিওয়ালা হিসেবে।

‘সবুজ জুস’ ও ক্ষমতার মসনদ: ২০১২ সালে ক্যানসারে আক্রান্ত হুগো চাভেজ মৃত্যুর আগে মাদুরোকেই নিজের উত্তরসূরি ঘোষণা করে যান। ২০১৩ সালে চাভেজের মৃত্যুর পর সামান্য ব্যবধানে জয়ী হয়ে প্রেসিডেন্ট হন মাদুরো। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি প্রায়ই হাতে ‘সবুজ জুস’ নিয়ে ঘুরতেন এবং এর স্বাস্থ্যগুণের কথা বলতেন, যা তাকে এক অদ্ভুত পরিচিতি এনে দেয়। তিনি নিজেকে দাবি করতেন চাভেজের ‘প্রকৃত উত্তরাধিকারী’ হিসেবে।

অর্থনৈতিক ধস ও স্বৈরশাসক উপাধি: বাস চালানোর দক্ষতা থাকলেও দেশ চালানোর দক্ষতায় তিনি ব্যর্থতার পরিচয় দেন বলে মনে করেন সমালোচকরা। তার আমলে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতিতে ধস নামে। একসময়ের ধনী দেশটি নিমজ্জিত হয় চরম দারিদ্র্য, মুদ্রাস্ফীতি আর খাদ্য সংকটে। লাখ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। বিরোধীদের দমন করতে তিনি কঠোর পথ বেছে নেন। বিরোধীদের তিনি ‘ফ্যাসিস্ট দানব’ বলে বিদ্রুপ করতেন। একের পর এক বিতর্কিত ও কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে ছিলেন।

৫০ মিলিয়ন ডলারের ফেরারি: যে মাদুরো একসময় বাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন, শেষ জীবনে তার মাথার দাম ওঠে ৫ কোটি ডলার (৫০ মিলিয়ন)। মাদক পাচার, দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার ওপর এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার ঘোষণা করেছিল।

অবশেষে ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন অভিযানের মধ্য দিয়ে যবনিকাপাত ঘটল বাসচালক থেকে প্রেসিডেন্ট হওয়া নিকোলাস মাদুরোর নাটকীয় অধ্যায়ের।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বরিশাল ৫ ও ৬ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন মুফতি ফয়জুল করীম

1

হাসিনাসহ ২৮৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন পিছিয়ে ২১ জানুয়ারি

2

ফতেহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির

3

জাতির প্রকৃত শক্তি কেবল তার প্রাকৃতিক সম্পদে নয়: প্রধান উপদে

4

কাল থেকে শুরু হচ্ছে চরমোনাইর অগ্রহায়ণ মাহফিল

5

নির্বাচনে সবার জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে চায় কমি

6

শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডকে ‘নরমালাইজ’ করতেই প্রথম আলোর এই জরিপ

7

জুলাই আদেশ জারি হচ্ছে আজ

8

জাপানে ৬.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা

9

৩২৫ ভোটকেন্দ্রে নেই বিদ্যুৎ, দ্রুত সংযোগের নির্দেশ ইসির

10

খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্

11

একদিনে গ্রেফতার ১৬৪৯, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ককটেল

12

‘মিস ইউনিভার্স’ হলেন মেক্সিকোর ফাতিমা বশ

13

একাত্তরকে ভুলে যাওয়া যাবে না: মির্জা ফখরুল

14

মাদুরোকে বিচারের মুখোমুখি করছে যুক্তরাষ্ট্র

15

এতিমদের দুম্বার মাংস লুটের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদে

16

যে কারণে ঢাকায় আসছেন না জাকির নায়েক

17

দেশের আকাশসীমায় প্রবেশ করেই যা লিখলেন তারেক রহমান

18

অন্তবর্তী সরকারে মনক্ষুন্ন রাষ্ট্রপতি ,করতে চান পদত্যাগ

19

‘মিস ইউনিভার্স’-এর মুকুট জয়ী কে এই ফাতিমা বশ

20
সর্বশেষ সব খবর