Deleted
প্রকাশ : শনিবার, ০৩ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
অনলাইন সংস্করণ

বিয়ের পরেও পড়া-লেখা: মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলো ঠাকুরগাঁওয়ের বাবাহারা আশা

বিয়ের পরেও পড়া-লেখা: মেডিকেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেলো ঠাকুরগাঁওয়ের বাবাহারা আশা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: একদিকে বাবার মৃত্যু, অন্যদিকে পড়াশোনা; বাবার মৃত্যুর পর অভিভাবকহীন হয়ে পড়েন রাফিয়া সুলতানা আশা। ৩ বোনের মধ্যে বড় রাফিয়া সুলতানা আশা। মেয়ের পড়াশোনা, সংসার—সব মিলিয়েই দুশ্চিন্তায় ছিলেন মা বিলকিস বানু। উপায় না পেয়ে পরিবারের সিদ্ধান্তে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েই বসেন বিয়ের পিঁড়িতে। তবে মায়ের অদম্য ইচ্ছা ও স্বামীর সহযোগিতায় অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকেই বাবার স্বপ্ন ছিল আশা চিকিৎসক হবেন। বাবা চলে গেলেও সেই স্বপ্নের দেখা পেয়েছেন তিনি। চলতি বছর টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ হয়েছে তাঁর।

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার কাচন ডুমুরিয়া গ্রামে বাড়ি রাফিয়া সুলতানা আশার। তিনি ওই এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য মরহুম আশরাফ আলীর বড় মেয়ে। এছাড়াও অন্য দুই মেয়ের একজন সামনে এসএসসি পরীক্ষার্থী, আরেকজন পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

সেনুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক ও পীরগঞ্জ বণিক উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর প্রতিবেশী স্কুল শিক্ষক তরিকুল ইসলামের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন আশা। বিয়ের পরেও সবার সম্মতি নিয়ে পীরগঞ্জ সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে পরীক্ষা দেন মেডিকেলে ভর্তির।

আশা বলেন, ‘বাবার ইচ্ছে ছিল আমি চিকিৎসক হয়ে গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াব। আমি সেই স্বপ্ন পূরণ করতে পরিশ্রম করছি। মা ও আমার স্বামী আমাকে সহযোগিতা করছেন, সাহস জোগাচ্ছেন। শ্বশুর-শাশুড়িও সহযোগিতা করেছেন; আমি কৃতজ্ঞ আমার শিক্ষকদের প্রতি, তাঁরা ছোটবেলা থেকে সাহস দিতেন, উৎসাহ দিতেন।’

সকলের সহযোগিতা ও দোয়ায় আমি সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবার ইচ্ছা ছিল মেয়েকে ডাক্তার বানিয়ে সমাজের অসহায় মানুষদের বিনামূল্যে চিকিৎসার মাধ্যমে সেবা দেবেন; তিনি তাঁর বাবার সেই আশা পূরণ করবেন।

আশার মা বিলকিস বানু বলেন, ‘স্বামী মারা যাওয়ার কারণে অসহায় হয়ে পড়েছিলাম। ছেলে নেই, তিন মেয়ের অভিভাবক বলতে আমি নিজেই। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিয়ে দিয়েছিলাম। তবে জামাই ও মেয়ের শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পড়াশোনা করাবে বলে কথা দিয়েছিল; কথা রেখেছে।’ মেয়ের জন্য দোয়া চান তিনি।

আশার প্রাথমিকের শিক্ষক আব্দুল মাজেদ বলেন, ‘তার (আশা) বাবা স্কুলে ভর্তির সময় বলেছিলেন—মেয়েটাকে দিয়ে গেলাম, তাকে চিকিৎসক বানাব, সেইভাবে পড়াবেন। তার বাবা চলে গেছেন ৫ বছর হলো। মেয়েটার অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মেধায় বাবার স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আমরা সবাই দোয়া করছি।’

স্বামী তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘মাঝেমধ্যেই ভেঙে পড়ত আশা। তাকে উৎসাহ দিয়েছি, তার মেধা রয়েছে। আমি খুব আশাবাদী সে দেশের জন্য, এলাকার জন্য ভালো কিছু করবে।’

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশে যা আছে, পড়ুন বিস্তারিত

1

দয়া করে আমার নামের আগে মাননীয় সম্বোধন করবেন না, সাংবাদিকদের

2

কাল থেকে শুরু হচ্ছে চরমোনাইর অগ্রহায়ণ মাহফিল

3

নুরকে বহিষ্কারের বিজ্ঞপ্তি, যা জানা গেল

4

শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান অস্বীকার করা যাবে না: নুর

5

ইবোলার থেকেও শক্তিশালী প্রাণঘাতী ছোঁয়াচে ভাইরাসের চোখ রাঙান

6

চোরাই জ্বালানি পরিবহন, ভারতীয় ১৩ ক্রুসহ জাহাজ জব্দ করল ইরান

7

পল্লবীতে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩টি রিভলভার ও বিপুল কার্তুজ উদ্ধা

8

ইসির সংলাপে হট্টগোল, ইসলামী ঐক্যজোটের এক পক্ষকে বের করে দিল

9

দেশের সব মোবাইল ফোনের দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা এমবিসিবি’র

10

ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের নিন্দা ফখরুলে

11

জ্বালানি তেলের দাম কমলো লিটার প্রতি ২ টাকা, আজ থেকে কার্যকর

12

ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা: ২৭ জনকে আটক কর

13

কলকাতায় লাইফ সাপোর্টে ওবায়দুল কাদের: অবস্থা সংকটাপন্ন

14

নিষিদ্ধ হিযবুত তাহরীরের পোস্টার লাগানোয় ৫ শিক্ষার্থী আটক

15

এবার ৪.১ মাত্রার ভূমিকম্পে কাঁপল রাজধানী ঢাকা

16

বাড়ল এলপি গ্যাসের দাম, সন্ধ্যা থেকে কার্যকর

17

বাউলের কটূক্তি: মানিকগঞ্জে তাওহিদী জনতার সংবাদ সম্মেলন, বিশৃ

18

সময় দেওয়ার কথা বলে এখন ভোটের জন্য তাড়া দিচ্ছে জামায়াত

19

চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুলিশ বক্সে হামলা ও অগ্নিসংযোগ: ৩০০ জনের বির

20
সর্বশেষ সব খবর