শুক্রবার, এপ্রিল ১৬

করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের তীব্র সংকট

নিউজ ডেস্কঃ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ঠাকুরগাঁওয়ে হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে রোগী ও রোগীর স্বজনরা আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে। অন্যদিকে চিকিৎসা সেবা প্রদানেও নার্সরা কাজে অনিহা প্রকাশ করছে। আর জেলার সিভিল সার্জন বলছেন, জিনিসপত্রের সংকট থাকায় প্রতিনিয়ত পত্র প্রেরণ করা হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা সরবরাহ কম পাওয়ায় যাচ্ছে। ফলে চিকিৎসা সেবায় হিমসিম খেতে হচ্ছে।
জেলার ১শ শয্যা বিশিষ্ট্য আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে রোগী ভর্তি থাকছে ৩-৪ জন। এদের মধ্যে জ¦র, সর্দি, কাসিসহ নানা রোগে আক্রন্ত হয়ে বেশিরভাগ রোগীই ভর্তি হচ্ছেন হাসপাতালে। অন্যদিকে জেলার পীরগঞ্জ, রাণীশংকৈল, হরিপুর ও বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও একই পরিস্থিতিতে চলছে। ফলে করোনা আতঙ্কে দিন কাটছে হাসপাতাল সংশ্লিস্টদের। সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরিমান প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ না করা হলে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় ভয়াবহ পরিস্থিতি রুপ নিবে বলে মনে করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও শুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
হাসপাতাল সংশ্লিস্টরা জানান, ঠাকুরগাঁও সদর হাসপাতালসহ জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হ্যান্ড সেনিটাইজার, মাস্ক, হেন্ডগেøাবসহ করোনা ভাইরাস প্রতিরোধক জিনিসপত্রের তীব্র সংকট রয়েছে। আমরা হাসপাতালের পক্ষ থেকে সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ে যে পরিমানে পত্র প্রেরন করছি তার অর্ধেকও দেয়া হচ্ছে না। আর সেকারনেই সংকট দেখা দিয়েছে। হাসপাতালগুলোতে জিনিস পত্রের সংকট থাকলে নার্সরা কাজ করবে কিভাবে তারাওতো মানুষ এ কারনে তারাও আতঙ্কের মধ্যে আছে ভয় ভয় করে কাজ করছে। পরিস্থিতি প্রকোট হওয়ার আগেই সংকট পুরন করা না হলে চিকিৎসা সেবায় কি হবে সেটা পরিস্থিতির উপড় নির্ভর করা ছাড়া কিছুই বলা সম্ভব নয়।
এ বিষয়ে সুÑশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফ জানান, সরকার শুরু থেকেই পদক্ষেপ নিতে দেরি করে ফেলেছে। আর বর্তমান পরিস্থিতেও করোনা ভাইরাস সংকট মোকাবেলায় হাসপাতালগুলোতে জিনিসপত্রের পর্যাপ্ত সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে চিকিৎসক ও সেবক সেবিকারা তাদের নিরাপত্তা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন। এখন যদি সরঞ্জামের অভাব পুরন করা না যায় আগামীতে করোনা ভাইরাসের পার্দুভাব হলে হাসপাতালে সেবা প্রদানে কাউকে খুজে পাওয়া যাবে কি না সন্দেহ করা হচ্ছে। আমরা চাই সরকারের পক্ষ থেকে এ পরিস্থিতিতে পর্যাপ্ত জিনিসপত্র প্রদান করে করোনা মোকাবেলায় প্রস্তুতি নিবেন।
এ বিষয়ে সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ মাহফুজার রহমান জানান, আমরা সরঞ্জাম সংকটের কথা উল্লেখ করে নিয়মিত সংশ্লিস্ট মন্ত্রনালয়ে পত্র প্রেরণ করছি। রোগীদর সেবা প্রদানে হাসপাতাল সংশ্লিদের নিয়ে বার বার মিটিং করছি। এখনো পর্যন্ত এ জেলা থেকে করোনা ভাইরাসের কোন রোগী নেই। তবে ১৭৮ জনকে হোম কোয়ারেইন্টেনে থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যদি করোনা রোগীর পার্দুভাব দেখা দেয় তাহলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র অবশ্যই পর্যাপ্ত থাকা দরকার বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিভাগের এই কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *