বুধবার, এপ্রিল ১৪

শেখ হাসিনা এখন বিশ্বনেতাদের কাতারে

নিউজ ডেক্সঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩ বছরের বর্ণাঢ্য জীবনে উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টানা ৩৮ বছর ধরে। বিশ্বের সব থেকে বেশি সময় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা নারী রাজনীতিবিদের মাইলফলকও এখন তাঁর দখলে। বিশ্লেষকরা মনে করেন, প্রজ্ঞা, দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা আর সাহসী নেতৃত্ব গুণের কারণে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে শেখ হাসিনা এখন নিজেকে আসীন করেছেন বিশ্ব নেতৃত্বের কাতারে।

সব হারানোর বেদনা নিয়েও বাঙালির দিন বদলের সনদ হাতে সবাইকে সব দেয়ার অপার মন্ত্রে নিরন্তর পথচলা তাঁর।

বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডা. এস এ মালেক বলেন, বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামের চেয়ে শেখ হাসিনার সংগ্রাম কোনো অংশে কম ছিল না।  প্রতিটি সংগ্রামে শেখ হাসিনার দৃঢ়তা তার সাহসিকতা, সততা নিষ্ঠা এবং জনগণের প্রতি ভালোবাসা এই ছিল তার সম্বল।

 দেশভাগ আর উপমহাদেশের উত্তাল রাজনীতির ঘটনাবহুল সময়, ৪৭ এর এ দিনে গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ায় জন্ম নেন, তখনকার তরুণ রাজনীতিবিদ শেখ মুজিবের আদরের হাসু। পিতার সংগ্রামমুখর নেতৃত্বের প্রতিটি অধ্যায়ে নিরব সাক্ষী শেখ হাসিনা রাজনীতিতে জড়ান ছাত্রজীবনেই। আইয়ুববিরোধী আন্দোলন আর ছয় দফার সক্রিয় কর্মী শেখ হাসিনা নির্বাচিত হন ইডেন কলেজের ভিপিও।

আর ৭৫ এর পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘ ৬ বছরের নির্বাসিত প্রবাস জীবন কাটিয়ে হাল ধরেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির। বিপন্ন সেই সময়ে দলীয় সভানেত্রী নির্বাচিত হয়ে দেশে ফিরেন ৮১ সালে। পিতার ঐশ্বর্যময় রাজনীতির সিঁড়িতে পা রেখে শুরু নতুন অধ্যায়ের। সীমাহীন অনিশ্চয়তা আর প্রতিকূলতার মধ্যে বাঙালির ভোট ও ভাতের অধিকারে আদায়ে লড়াই করেন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে।

১৯৯৬ সালে দলকে আনেন ক্ষমতায় দীর্ঘ ২১ বছর পর। আর ২০০৮ সালে বিজয়ের পর থেকে এখনো অধিষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায়। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকায় নারী রাজনীতিকের পালকও এখন তাঁর মুকুটে। জিডিপির ঈর্ষণীয় প্রবৃদ্ধিসহ সবখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য, সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ দমন, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক কড়া বার্তা তুলে ধরে তাঁর দৃঢ়চেতা নেতৃত্ব। নানা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি মিলছে আন্তর্জাতিক পরিসরেও।


ভারতের সঙ্গে সীমান্ত সংকট মিটিয়ে ছিটমহলবাসীর নাগরিকত্ব নিশ্চিত, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় তাঁকে দিয়েছে মানবতাবাদী নেত্রী হিসেবে বৈশ্বিক স্বীকৃতি। আবার একই সঙ্গে পরাশক্তি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায়ও প্রশংসা কুড়িয়েছে বিশেষজ্ঞ মহলে।

তবে অমসৃণ চলার পথে আঘাত এসেছে অসংখ্যবার। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বারবার করতে হয়েছে কারাবরণ। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কিংবা লালদীঘির ময়দানে গুলি বর্ষণ—এভাবে ২০ বারের বেশি চেষ্টা হয়েছে শেখ হাসিনার প্রাণনাশের। তবুও কখনো হাল ছাড়েননি নির্ভীক অকুতোভয় এই রাজনীতিক।

শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে উদযাপন হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন।

শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ টাউন হলে কেক কেটে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়। এসময় জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে দোয়া মোনাজাতে দলের সভাপতির দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

বেলা ১২টায় যশোর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কেক কেটে প্রধানমন্ত্রীর ৭৩তম জন্মদিন উদযাপন করা হয়। পরে সেখানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া, ঝিনাইদহ, পটুয়াখালী ও মোংলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজনে উদযাপন হয়েছে আওয়ামী লীগ সভাপতির ৭৩তম জন্মদিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *