রবিবার, অক্টোবর ২৪

হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা ও নাগরিক -প্রত্যাশা -অ্যাডভোকেট আবু মহী উদ্দীন

বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, স্বাস্থ্য খাতের নিশ্চয় উন্নতি হয়েছে এ কথা অস্বীকার করার উপায় নাই। প্রতি বছর প্রচুর বাংলাদেশী ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করতে যায় এবং ফিরে এসে তাদের হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার ভুয়সী প্রসংসা করে। ফলে অন্য রোগীরাও আগ্রহী হয় এবং চিকিৎসা করাতে যায়। এতে প্রতিবছর বাংলাদেশ থেকে কত পরিমান অর্থ বিদেশে যায় তার সঠিক পরিসংখ্যান প্রায় অসম্ভব। আমি বীর মুক্তিযোদ্ধা , বাংলাদেশ টেলিভিশনের ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি ও বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি জেলা সভাপতি বিশিষ্ট সাংবাদিক আখতার হোসেন রাজার চিকিৎসা ব্যপারে ভেলোরের সিএমসি হাসপাতালে প্রায় ১ মাস ছিলাম। এই এক মাসে ভেলোরের সিএমসি , নারায়নী , সিএমসি চক্ষু হাসপাতাল , ডায়াবেটিক হাসপাতালসহ দক্ষিন ভারতের কয়েকটি হাসপাতালের কার্যক্রম নিবিরভাবে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছি।
প্রত্রিকার খবরে প্রকাশ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সিঙ্গাপুরের হাসপাতালে জ্ঞান ফিরলে জিজ্ঞাসা করেছেন আমি এখানে কেন? অর্থাৎ দেশে চিকিৎসা করা হয়নি কেন? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক সময় বলেছিলেন আমাকে যেন দেশেই চিকিৎসা করা হয়। কোন ছুতা নাতায় যেন এয়ারবাসে সিঙ্গাপুর পাঠানো না হয়। তার মানে দেশের সরকার প্রধান এবং সরকারি রাজনীতির গুরুত্বপুর্ণ নেতারাও চান দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নতি হোক। যদিও বিরোধী দলের নেতারা স্বাস্থ্য বিভাগের উন্নতির কোন কথা তারা স্বীকার করবেনা এবং সে নেতারা পার্টির অর্থানুকুল্যে বিদেশে চিকিৎসা সুবিধা নেন। বিরোধী রাজনীতির কর্মীরাতো তো চাইবেনই কারন বিদেশে চিকিৎসা করার সুযোগ সুবিধা সরকারি নেতারা যা পাবেন বিরোধীরাতো সে সুবিধা পাবেননা। ফলে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নত হলে বিরোধীরাই বেশী উপকৃত হবেন, সরকারিরাতো বটোই। তবে বিদেশে চিকিৎসা করালে ইজ্জত বাড়ে। সিঙ্গাপুর হলে ক শ্রেনি , ব্যাংকক হলে খ শ্রেনি , ইন্ডিয়া হলে গ শ্রেনি হয়। ভোলোর, চেন্নাই, ব্যঙ্গালোরের হাসপাতালসমুহে বাঙ্গালি রোগীর সংখ্যাধিক্য দেখে মনে করার কারণ আছে যে বাংলাদেশ থেকে রোগীরা না গেলে ওদের কর্মচারীদের বেতন হবে কীনা প্রশ্ন উঠবে। সেখানকার ব্যবস্থাপনায় সন্তষ্ট বাংলাদেশের রোগীরা । সে কারনে একজন রোগী ফিরে এসে দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার দুর্দশা এবং ভারতের ব্যবস্থার প্রশংসা শুনে রোগী ভারতে যেতে আগ্রহী হয়। কি পরিমান রোগী ভারতে চিকিৎসার জন্য যায় তা ইচ্ছা থাকলে ভারতীয় ভিসা সেন্টার থেকে খোজ নিলেই ধারণা পরিস্কার হবে।
আমার পরিবারে ছোট বড় মিলে ১১ জন ডাক্তার। আরো ২/৪ জন হওয়ার অপেক্ষায়। তাদের সাথে কথা বলে, খবরের কাগজে পড়ে ধারণা হয়েছে আমাদের দেশের বিশ্বমানের চিকিৎসক আছে , যন্ত্রপাতি আছে , চিকিৎসাতো সারা বিশ্বে এক। ক্যান্সার চিকিৎসা সারা দুনিয়ায় এক। একই যন্ত্রপ্রাতি। অন্যান্য রোগের বেলায় ও তাই। ভারত থেকে অর্থ ব্যায় করে এসে বাংলাদেশের ডাক্তারদের চিকিৎসায় রোগী ভাল হয়েছে এ রকম উদাহরণ ও ভুড়ি ভুড়ি আছে। তারপরে তারা কেন যায় এই প্রশ্ন থেকে যায়। আমি ভেলোরের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা প্রার্থীেেদর সাথে আলাপ করেছি। আমাদের রোগীরা গড়ে দেড়লক্ষ টাকা খরচ করেন। হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যায় কিছুটা কম। ধনী গরীব সকলেরই এক। ডাক্তারের ভিজিট অনেক কম। যাতায়ত হোটেল খরচ এটেন্ডেন্ট খরচ এগুলো হিসাবের মধ্যে ধরতে হবে। আগে বাংলাদেশের অধিকাংশ রোগীরা কোলকাতার হাসপাতালে যেতো , এখন কম যায়। ইদানিং কোলকাতা থেকেও অনেক রোগী দক্ষিন ভারতের হাসপাতালগুলোতে যায়। বেশ কিছু রোগীর সাথে আলাপ হয়েছে, তারা অভিযোগ করেছেন কোলকাতার হাপাতালগুলোর অধিকাংশই এখন বেশী বানিজ্যিক হয়েছে। কারণে অকারণে অর্থ ব্যয় করাতে বাধ্য করার অভিাযোগ রয়েছে। আমাদের দেশের ডাক্তারদের বিরুদ্ধেও অনুরুপ অভিযোগ আছে। কারণে অকারণে বিভিন্নœ টেস্ট ধরিয়ে দিয়ে কমিশন খাওয়ার অভিযোগ আছে এন্তার। হাতের ব্যাথার জন্য পায়ের বা পেটের এক্সরে করে। আমাদের দেশের ডাক্তার সাহেবরা নিজেরা সংসারের জন্য কিছু কেনেনা। তাদের বিদেশ যাওয়ার খরচ দেয় কোম্পানী। আবার সেসব যাওয়া যে ট্রেনিংয়ে বা কোন প্রয়োজনে তা নয়। অধিকাংশই ওয়ার্কশপ বা সেমিনারের নামে প্লেজার ট্রিপে। বাসাবাড়ীর প্রয়োজনীয় জিনিষপত্র, উপকরণ,ফার্নিচার ক্ষেত্র বিশেষে গাড়ী, চিকিৎসার ঔষধ কোম্পানী বহন করে। সুতরাং কোম্পানীর প্রতি একটা দায়বদ্ধতা থেকে যায় বৈকি। বৌয়ের শাড়ীও কোম্পানী দেয়। আবার মাঝে মাঝে ভিজিট করা , ডায়াগনোষ্টিক সেন্টারের কমিশন তো আছেই। এসব আলোচনা নজরে পড়লেই ডাক্তার সাহেবরা তেতে উঠবেন। আমি ১০০ ভাগের কথা বলছিনা। নিষ্টাবান , মানবপ্রেমি কিছু ডাক্তার আছে বলেই দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা চালু আছে। এবং এদের কারণেই চিকিৎসা ব্যবস্থা এগিয়ে যাচ্ছে। আপনারা এই অভিযোগ গায়ে মাখবেননা। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ঘুরে ঘুরে আমরা রোগী হিসাবে কিছু পরামর্শ দিতে পারব। তা হলো আমার এই প্রস্তাব বা মনোভাব যদি মাননীয় প্রথানমন্ত্রীর কোন ভাবে পড়েন তাহলে হয়তো দেশবাসীর দারুন উপকার হতেও পারে।
আমাদের হাসপাতালগুলোর দালান , ডাক্তার , ঔষধ , যন্ত্রপাতি সবই অপ্রতুল হলেও আছে। যন্ত্রপাতি একেবারেই অপ্রতুল সে অভিযোগ করবনা। আমার অভিযোগ যা আছে , তা হলো তার ব্যবহার নাই। দুষ্ট ডাক্তার বা কর্মচারী সব জায়গাতেই আছে। জেলা হাসপাতালগুলোতে তো বটেই, বড় হাসপাতালের যা চিত্র তার উদাহরণ দিলে পরিস্কার হবে।
কদিন আগে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স এন্ড হসপিটালে গিয়েছিলাম চিকিৎসা সেবা নিতে। এই হাসপাতালের কার্যক্রম যদি বিবেচনায় আনা যায় তা হলে দেখা যাবে তা হলো টিকিট কেটে ডাক্তারকে দেখানো হলো , ডাক্তার সাহেব ২/১ টা টেষ্ট দিলেন যা ঐ হাসপাতালেই সেই দিনই হবে। যেমন এক্সরে, আরবিএস, সিরাম ক্রিয়েটিনিন। এসব টেষ্ট হাসপাতালেই হবে। সেম্পল দিলেন। রিপোর্ট পাওয়া যাবে পরের দিন সাড়ে ১২ টায়। হাসপাতালের কর্মচারীরা কাজ শুরু করে ১০ টায়। বেলা ১২ টা বাজলে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু করে। কোন কোন পরীক্ষা করতে ২০/৩০ মিনিট লাগে। না হয় ১ ঘন্টাই লাগলো। সেই দিন রিপোর্ট পাওয়া যাবেনা কেন ? এ বিষয়টি আপনি বুঝবেননা।
হাসপাতালের অধিকাংশই রোগি বাইরে থেকে আসে। তারা আসে আগের দিন। পরের দিন শুধু ডাক্তার দেখাবে। আর পরের দিন টেষ্ট এর রেজাল্ট নিয়ে সেদিনই ডাক্তার দেখানো যাবে তার নিশ্চয়তা কম।
রোগীরাতো একা আসতে পারেনা। রোগীর ২/১ জন এটেনডেন্ট সঙ্গে আসে। তাদের থাকা খাওয়া যাতায়ত বাবদ খরচ বহণ করত হয় রোগকে। পরের দিন আরো যদি ২/১ টি টেষ্ট দেয় তাহলে তার রিপোর্ট পাওয়া যাবে আবার পরের দিন বেলা সাড়ে ১২ টায়। যে কাজটা ১ দিনেই সম্ভব সে কাজ করতে কমপক্ষ ৪ দিন প্রয়োজন হয়, হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের জন্য। অথচ ১ দিনেই সমাধান করতে পারলে বেশী সংখ্যক মানুষকে সেবা দেওয়া যেতো। একজন রোগী যখন সরকারি হাসপাতালে অহেতুক সময় লাগার বিষয় বুঝতে পারে, তখন প্রাইভেট হাসপাতালে যেতে বাধ্য হয়। ডাক্তারেরা রোগীদের টেষ্টের দাম নেয় বেশী করে। প্রাইভেট হাসপাতাল ১দিনে রিপোর্ট দিতে পারলে সরকারি হাসপাতাল কেন দিতে পারবেনা। আবার রিপোর্ট সাড়ে ১২ টায় কেন? আগের দিনের টেষ্টের রিপোর্ট কেন সেদিন দশটায় দেওয়া যাবেনা রোগীরা এই প্রশ্নতো করতেই পারে। পরের দিন ১০ টায় রিপোর্টটা পেলে চিকিৎসাটা সেদিনই শুরু করতে পারে।
৭ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের টক শোতে কিছু বিজ্ঞ আলোচক যা বললেন তাতে মনে হলো দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আকাশে উঠে গেছে এবং এসব কাজে তাদের খুবই গুরুত্বপুর্ণ ভুমিকা আছে। আসলে আছে দালালী। এসব বিষয় যে দেশের মানুষ বোঝে, তা আমাদের জ্ঞানী (?) মানুষরা বোঝেনা। তবে সাধারণ রোগীরা যা বোঝেন বিজ্ঞ জনেরা তা বোঝেননা বা বোঝার চেষ্টা করেননা। তারা শুধু আত্মতুষ্টিতে ভোগেন আর নিজেদের কৃতিত্ব জাহির করতে ব্যাস্তো থাকেন। সোনাগাজীতে মাদরাসার অধ্যক্ষ যখন ছাত্রীকে পুড়ে মারার চেষ্টা করেছিল তখন তার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। আলোচকরা সরল স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে বোঝাতে পারলে বাজেট বা অনুমোদন কোন সমস্যা নয়। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায় প্রায়ই খবরের কাগজে দেখা যায় যে বিভিন্ন হাসপাতালে ডাক্তার উপস্থিত থাকেননা। বছরের পর বছর হয় এক্সরে মেসিন বা এ্যাম্বুলেন্স নষ্ট হয়ে পড়ে আছে , বছরের বছর গুরুত্বপুর্ন যন্ত্রপাতি বাক্সবন্দি অবস্থায় আছে।
কোথাও যন্ত্র আছে, অপারেটর নাই , অপরেটর আছে, যন্ত্র নাই। ডাক্তার সাহেবরা হাসপাতালে সময় দেননা। প্রাইভেট প্র্যাকটিসে ব্যস্তো। টকশোতে আলোচনা যাইই হোক স্বাস্থ্য বিভাগে দেখাশোনার যে কেউ নাই সে কথা জোর দিয়ে বলা যায়। না হলে মাসের পর মাস ডাক্তার সাহেবরা হাসপাতালে অনুপস্থিত থাকেন। সেটা আবার কমিটি করে দেখতে হয়। সিভিল সার্জন সাহেবরা আসার দিন তারিখ দিয়ে উপস্থিতি পরিদর্শনে আসেন। ঢাকা থেকেও প্লেজার ট্রিপে আসেন। সরকারের ভ্রমন ভাতা বাবদ খরচ বাড়ে।
বলছিলাম হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার কথা। হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় আমরা আশে পাশের দেশের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। আমাদের হাসপাতালের চেয়ে ভিন্ন কিছু আছে বা ভিন্নগ্রহের কোন মানুষ তা পরিচালনা করে বা বিদেশের কোন মানুষ পরিচালনা করে তাতো নয়। কোন যন্ত্রপাতিই বাংলাদেশে তৈরি হয়না, চিকিৎসা যন্ত্রপাতির অধিকাংশই সিমেন্স সরবরাহ করে সেটা আমাদের দেশেও যা বিদেশেও তাই। আমাদের দেশে বিষেশজ্ঞ ডাক্তার আছেন তাদের দেশেও আছেন, তাহলে সমস্যাটা কোথায় ? সমস্যা ১টা আছে তা হলো কোন একজন ছদ্মবেশী ব্যবস্যায়ী ব্যাংক থেকে শতকোটি টাকা নিয়ে আর পরিশোধ করেননা। যারা পরিশোধ করেন তারা বোকা। কেননা যারা পরিশোধ করেননা সরকার তাদের ভর্তুকী দেয়। এটা যে কতবড় সর্বনাশের কথা তা আর ক বছর পরে বোঝা যাবে। অথচ ডাক্তারদের চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার জন্য লোন পাওয়া যায়না। অথচ ডাক্তারদের এই সুবিধা দিল প্রাইভেট চিকিৎসা ব্যবস্থায় আমুল পরিবর্তন আসবে। জেলা / উপজেলা সদরে অনেক ডাক্তার থাকতে চান। চিকিৎসক হিসাবেও ভাল। তাদেরকে চিকিৎসাযন্ত্র কেনার অর্থ লোন আকারে দিলে তা আদায় করা কঠিন নয়। ইসিআর মেসিনের মাধ্যমে সহজে হিসাব নিকাশ করে ব্যাংক ইন্টারেষ্ট সহ ফেরত নেওয়া যাবে। আমাদের দেশের সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো রোগীর কথা শোনার সময় তাদের নাই। একথাটা আংশিক সত্যি। তারা আউটডোরে সব রোগী দেখেন তাদের জন্য ২/১ মিনিট সময় দিলেই কিন্তু রোগীর সব কথা শোনা যায়। যদিও ডাক্তার সাহেবরা অভিজ্ঞতার আলোকে রোগী তার রোগের বর্ননা শুরু করতেই বুঝে ফেলেন বাঁকীটা না বললেও চলে। যদিও রোগীরা স্বস্তি পাননা। রোগীরা চান ডাক্তার সাহেব তার কথা শুনুক। ডাক্তার সাহেবরা বলতে পারেন অত শত শোনার দরকার কী? অসুখের কারণ জানতে পারাইতো যথেষ্ঠ। আসলেই তো তাই। ডাক্তার সাহেবরা হাসপাতালে রাউন্ড দেন। আবার আউটডোরে বসেন, ফিরে গিয়ে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। বড় জোড় ২ টা পর্যন্ত হাসপাতালে থাকেন। কর্মচারীরা আরো ১ ধাপ এগিয়ে। বেলা ১২ টা পার হলেই তারা সব ক্লোজ করার কাজ শুরু করেন। জেলা সদরের হাসপাতালে শত শত রোগী অপেক্ষায় প্রহর গোনে। তাদের দেখার জন্য একজন ডাক্তার সময় পান সর্বোচ্য দুই আড়াই ঘন্টা। যদি ১০০ জন রোগী দেখেন তাহলে তিনি রোগী প্রতি সময় পান এক মিনিট। দু ঘন্টায় যদি ১০০ রোগী দেখেন তাহলে তিনি রোগী প্রতি কত সময় দিতে তা অবশ্যই বিবেচ্য বিষয়। বিদ্যুৎ গতি সম্পœœন্ন দাবা খেলার মতো। আবার এখানে ব্যাড ইন্টেনশনও কাজ করে। হাসপাতালে যত কম রোগী দেখা যাবে বা চিকিৎসা হবে ততো তার ব্যক্তিগত চেম্বারের চাহিদা বাড়বে। তবে বর্তমান অবকাঠামোর মধ্যেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব।
প্রথমত ডাক্তার সাহেবদের ভিজিট সিষ্টেম করতে হবে, যাতে তাকে প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে না হয়। তিনি হবেন ফুলটাইমার। অথ্যাৎ ৮ ঘন্টা চাকুরী করবেন। বাংলাদেশের রোগীরা বিদেশে গিয়ে দিব্বি ভিজিট দিয়েই হাসপাতালে রোগী দেখান। সে পদ্ধতি চালু করতেতো সমস্যা নাই। কেননা ভিজিট এর টাকা দিবে তো রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে রোগীদের নিখরচায় চিকিৎসা দেওয়া হয় এই কথাটা পুরো সত্য নয়। কেননা সেবাতো সব কিনে নেওয়া হয়। কেবলমাত্র ডাক্তারের ভিজিট লাগেনা। সেটা দিতেতো আমাদের কোন আপত্তি নাই। তবে একটা বিষয় নির্দি¦ধায় স্বীকার করতে হবে যে প্রাইভেট হাসপাতালে বিভিন্ন টেষ্টের যা রেট সরকারি হাসপাতালে তার চেয়ে অবিশ্যাস্য রকমের কম। কারণ হাসপাতালে কমিশন নাই। প্রাইভেট ডাক্তার সাহেবদের কমিশন, স্পিড মানি পরিদর্শকদের খুশী রাখা, সমিতিকে চাাঁদা দেওয়া ইত্যাদির কারণে প্রাইভেট ডায়াগনিষ্টক সেন্টারের ব্যয় বাড়ে। তাছাড়া ওটাতো সমস্যাও বটে। ব্যবস্যায়িক বিষয়তো থাকবেই। ১টি এক্সরে রিপোর্টের জন্য যদি ২বার হাসপাতালে যেতে হয় তাহলে ঐ ফ্রি কী কাজে লাগে। দরকার ৮ ঘন্টার ডাক্তার। ২৪ ঘন্টার ডাক্তার।
ডায়াগোনষ্টিক সেন্টার গুলোতে যারা টেকনিশিয়ান হিসাবে দায়িত্ব পালন করে তারে অদক্ষতা প্রশ্নাতীত ভুইফোর ডায়াগনষ্টিক প্রশিক্ষন প্রতিষ্ঠান থেকে কেনা সনদধারী টেকনিশিয়ানদেও ল্যাব টেষ্টের রেজাল্ট দিয়ে চিকিৎসা করালে রোগীর কি হবে তা সহজেই অনুমেয়। বিশেষত গ্রামাঞ্চলে সনদ বিক্রি করা প্রতিষ্ঠানের সনদ দিয়ে নিয়োগ করলেও তাদের নিয়োগের পর ভালো ট্রেনিং প্রয়োজন। ডায়াগনষ্টিক ব্যবস্থা সঠিক হলে চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নত হবে এসব জোর দিয়ে বলা যায়। মাঝে মাঝে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ ওঠে এবং তা ক্ষেত্র বিশেষে সত্যিও হয়। তার অধিকাংশ কারণই ভুল ডায়াগনোসিস, যাতে ভুমিকা রাখে টেকনিশিয়ানরা। ডাক্তার সাহেবরা টেষ্ট রিপোর্টের সার্টিফিকেট স্বাক্ষর করে রাখেন এটা তেমন দোষের নয় কেননা ডাক্তার তো নিজে পরীক্ষা করেননা, স্বাক্ষর আগেই করা আর পরেই করা একই কথা। টেকনিশিয়ানদের রিপোর্টের কাগজেই সই করে দিতে হয়। এ জন্য হাসপাতালে অনেক টেকনিশিয়ান দরকার। মাঝে মধ্যে টেকনিশিয়ানদের টেষ্ট এর র‌্যানডম সার্ভে করতে হবে। সে সব টেকনিশিয়ানরা নির্ভূল টেষ্ট উপহার দিবে তাদের তাদের ইনটেনসিভ দেওয়া যেতে পারে। সরকারি হাসপাতালের সকল টেষ্ট উন্মুক্ত থাকবে। যে কোন রোগী যে কোন সময় যে কোন টেষ্ট সরকার নির্ধারিত মুল্যে করতে পারবে। তার জন্য দরকার অতিরিক্ত টেকনিশিয়ান আর তাদের ভাতা হতে পারে বিভিন্ন টেষ্ট এর ফি থেকে।
হাসপাতালের কর্মচারিদের আচরন বিধির ট্রেনিং দিতে হবে। কেবলমাত্র ওয়াজ নসিহত করলে হবেনা। সেবা দেওয়ার কথা মুখে বললে হবেনা, মুখেও বলতে হবে বাধ্যও করতে হবে।
দেশের বড় বড় হাসপাতালে ডাক্তার থাকেন একেবারে নবীন আর থাকেন রিটায়ার করা ডাক্তার সাহেবরা। হাসপাতালে গেলেই জুতা বাদ দিয়ে প্লাষ্টিকের জুতা পড়তে হয় পোষাক পড়তে হয়, নার্সেরা যতœ করেন , ভাবার কোন কারণ নাই যে তারা সেবার জন্যই করেন। তাদের উপর কড়া নজরদারী থাকে। এদিক সেদিক করলে পরের দিন তার চাকুরী আর নাই। এ জন্য সেবা নিশ্চিত করার অন্যতম কারন। আর সরকারি চাকুরী একবার হলে আর যায়না। কোন সমস্যা হলে দলাদলি , ইউনিয়ন, ডাব, স্বাচিপ মামলা তো আছেই রক্ষা কবচ হিসাবে। বিদেশে সব ধরণের সেবা, আপনি যা চাইবেন তা পাবেন কিন্তু কোন কিছুই ফ্রি নয়, তার জন্য পয়সা দিতে হবে। আমরা টাকা দিতে রাজী আছি তখন সেবা চাই। সরকারের উচিৎ ব্যবস্থা রাখা। পরীক্ষামুলক ভাবে কয়েকটি হাসপাতালে চালু করা যেতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *